রহস্য ও থ্রিলার গল্প অদৃশ্য বার্তা
অদৃশ্য বার্তা
পাঠ সময়: ৩ মিনিট
নিঝুম রাত। ঘড়ির কাটায় তখন ঠিক দুটো বাজে। হঠাৎ টেবিলের ওপর রাখা রিহানের মোবাইলটি ভাইব্রেট করে উঠলো। এই অসময়ে কে মেসেজ পাঠাতে পারে? অলস ভঙ্গিতে ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই রিহানের কপাল কুঁচকে গেল। অজানা একটি নম্বর থেকে মেসেজ এসেছে—"পেছনের দরজাটা খোলা রাখা ভুল ছিল, রিহান।"
"মুহূর্তের মধ্যে পুরো শরীরটা ঠান্ডা হয়ে এলো। রিহান একা থাকে এই ফ্ল্যাটে। আর সবচেয়ে বড় কথা—পেছনের ব্যালকনির দরজা সত্যি লক করা হয়নি!"
রিহান ভয়ে ভয়ে খাট থেকে উঠে দাঁড়াল। ঘরের লাইট নেভানো। কেবল বাইরের রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলো জানলা দিয়ে এসে পড়েছে ঘরের মেঝেতে। কোনো শব্দ না করে ঘরের দরজার দিকে এগোতেই ফোনের স্ক্রিনটা আবার জ্বলে উঠলো।
দ্বিতীয় মেসেজ: "অন্ধকারে আমার দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই, আমি তোমার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছি।"
হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো রিহানের। সে কোনোমতে সাহস সঞ্চয় করে পেছনে ঘুরলো। না, ঘর অন্ধকার, কেউ নেই। কিন্তু হঠাৎ আলমারির পাশে রাখা ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় সে একটা জিনিস দেখতে পেল—আলোর মধ্যে সামান্য একটা ছায়া নড়ে উঠলো।
তাহলে কি সত্যিই রুমে কেউ ঢুকে পড়েছে? নাকি এটি কোনো ভৌতিক চক্রান্ত?
রিহান আর দেরি না করে ঘরের লাইটের সুইচে হাত দিল। সাথে সাথে পুরো ঘর আলোয় ভেসে উঠলো। লাইট জ্বালতেই রিহানের চোখ গেল ড্রেসিং টেবিলের দিকে। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার ছোট ভাই রাহাত, হাতে একটা ডুপ্লিকেট ফোন আর মুখে এক গাল দুষ্টুমিভরা হাসি!
রাহাত হেসে উঠে বলল, "ভাইয়া, হোস্টেল থেকে এসে তোমায় সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম! কিন্তু তোমার এই অবস্থা দেখে তো মনে হচ্ছে ভয় পেয়ে পুরোপুরি ভূত হয়ে গেছ!"
রিহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধপ করে সোফায় বসে পড়ল। বুকের ভেতরটা তখনও ধকধক করছে, তবে ভয়ের বদলে এবার চেহারায় নেমে এলো স্বস্তির হাসি।
মূলভাব: অনেক সময় আমাদের ভয়ের মূল কারণ বাইরের কোনো পরিস্থিতি নয়, বরং নিজেরই মনগড়া কল্পনা।
Comments
Post a Comment